বুধবার, ০১ Jul ২০২৬, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন
ভারতীয় উপমহাদেশের নৃত্যগুরু পণ্ডিত বিরজু মহারাজ আর নেই। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে রোববার রাতে দিল্লিতে নিজ বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুর সময় বিরজু মহারাজের বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।
ভারতীয় সংবাদ সংস্থা আনন্দবাজার পত্রিকাকে মৃত্যুর সংবাদ নিশ্চিত করেছেন তার পরিবার।
পরিবার জানায়, রোববার রাতে নাতির সঙ্গে খেলার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন বিরজু মহারাজ। অচেতন অবস্থায় দিল্লির সাকেত হাসপাতালে নেয়া হলে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। সম্প্রতি তার কিডনির রোগ ধরা পড়ে। তার ডায়ালাইসিস চলছিল বলেও জানা গেছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে নিবিড় যোগ ছিল এই নৃত্যসাধকের। অনেক প্রতিষ্ঠিত নৃত্যশিল্পী সরাসরি এই নৃত্যগুরুর শিষ্য ছিলেন।
১৯৩৮ সালে ৪ ফেব্রুয়ারি লখনৌতে জন্ম পণ্ডিত বিরজু মহারাজের। কত্থকের ‘মহারাজা’ পরিবারে জন্ম তার। সাত পুরুষ ধরে তাদের পরিবারে কত্থক নাচের চর্চা। তার দুই কাকা শম্ভু মহারাজ এবং লচ্ছু মহারাজ ছিলেন বিখ্যাত শিল্পী। বাবা অচ্চন মহারাজই ছিলেন বিরজুর গুরু।
শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের একাধিক ধারার সঙ্গে যেমন যুক্ত ছিলেন, তেমনই বহু ছবিতে কোরিওগ্রাফারের কাজও করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য সত্তর দশকের মাঝামাঝি সত্যজিৎ রায়ের ‘শতরঞ্জ কি খিলাড়ি’-র কোরিওগ্রাফি। ছবিতে দুটো গানের কোরিওগ্রাফি করেন। তার মধ্যে একটা ছিল ‘কানহা মে তোসে হারি’। গানটার সঙ্গে ছিল আমজাদ খানের অভিনয়।
কলকাতার সঙ্গে নিবিড় যোগ ছিল বিরজুর। ১৯৫২ সালে এই শহরেই জীবনে প্রথম মঞ্চে পারফর্ম করেন। মন্মথ নাথ ঘোষের বাড়িতে। তখন তাঁর বয়স চোদ্দ। বাবা মারা গিয়েছেন। জীবনে দাঁড়াবার জন্য লড়াই করছেন। সে সময় ডাক কলকাতায়। কাকা লচ্ছু মহারাজ তখন মুম্বইয়ে কোরিওগ্রাফির কাজ করছেন। আর এক কাকা শম্ভু মহারাজ ব্যস্ত ছিলেন লখনউতেই নিজের কাজে। মা এক পাতানো ভাইয়ের সঙ্গে কলকাতায় পাঠিয়েছিলেন বিরজুকে।
এর পর থেকে কাকাদের কাছে শিক্ষা চলেছে। ধীরে ধীরে মেলে ধরেছেন নিজেকে। দেশ-বিদেশে বহু অনুষ্ঠান করেছেন। রয়েছে প্রচুর ছাত্রছাত্রী। নিজের শিল্পকর্ম এবং শিক্ষার মধ্যে দিয়েই অমরত্ব লাভ করবেন বিরজু। ১৯৮৩ সালে তাকে পদ্মবিভূষণে সম্মানিত করে ভারত সরকার।